মেয়ের সেই দুঃখজনক ঘটনায় ক্রিকেট ছেড়ে ধর্মপ্রচারে নেমে পড়েন সাঈদ আনোয়ার

০২:৫২:২৮ মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০


মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২০, ০২:১৪:০৭

মেয়ের সেই দুঃখজনক ঘটনায় ক্রিকেট ছেড়ে ধর্মপ্রচারে নেমে পড়েন সাঈদ আনোয়ার

 মেয়ের সেই  দুঃখজনক ঘটনায় ক্রিকেট ছেড়ে ধর্মপ্রচারে নেমে পড়েন সাঈদ আনোয়ার

স্পোর্টস ডেস্ক : মেয়ের মৃ'ত্যুর পর সম্পূর্ণ পা'ল্টে যায় তার জীবনের গতিপথ। বিদায় জানাতে হয় ক্রিকেটকেও। বি'ক্ষি'প্ত ক্যারিয়ার সত্ত্বেও সাঈদ আনোয়ারকে বলা হয় পাকিস্তানের শ্রেষ্ঠ ওপেনারদের মধ্যে অন্যতম।

আনোয়ারের জন্ম ১৯৬৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, পাকিস্তানের করাচিতে। তার বাবা ক্লাবস্তরের ক্রিকেটার ছিলেন। তবে তিনি ক্রিকেটকে পরে পেশা হিসেবে নেননি। তিনি ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার। বাবার কাজের জন্য আনোয়ারের শৈশব কেটেছে বিভিন্ন দেশে।

ভাগ্যের সন্ধানে তার বাবা পাকিস্তান থেকে সপরিবারে ইরানের তেহরানে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে সৌদি আরব। তখন আনোয়ারকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল করাচিতে, দাদা-দাদির কাছে। করাচিতেই ক্রিকেটে হাতেখড়ি আনোয়ারের।

তবে অনেকদিন অবধি তার ক্রিকেটার হওয়ার কোনও পরিকল্পনা ছিল না। করাচির এনইডি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে কম্পিউটার সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক হন আনোয়ার। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকা যাবেন বলে ভেবেছিলেন তিনি।

পড়াশোনা এবং ঘরোয়া ক্রিকেট চলছিল একসঙ্গে। শেষ অবধি পাল্লা ভারী হল ক্রিকেটেরই। আমেরিকা আর গেলেন না। মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে জাতীয় দলে ডাক পেলেন সাঈদ আনোয়ার। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি তিনি পার্ট টাইম বাঁহাতি স্পিনারও ছিলেন। পরে তিনি মিডল অর্ডার থেকে ওপেনিংয়ে যান।

ওয়ান ডে ক্রিকেটে অভিষেক ১৯৮৯ সালের জানুয়ারি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। প্রায় দুই বছর পর ১৯৯০ সালের নভেম্বরে টেস্ট অভিষেক। মোট ৫৫ টেস্টে সাঈদ আনোয়ারের রান ৪০৫২। ৪৫.৫২ গড় নিয়ে সর্বোচ্চ রান অপরাজিত ১৮৮। ২৪৭টি ওয়ান ডে ম্যাচে মোট সংগ্রহ ৮৮২৪ রান। ৩৯.২১ গড়ে সর্বোচ্চ রান ১৯৪। উইকেট পেয়েছেন ৬টি।

অ'সু'স্থ'তার কারণে বারবার তার ক্যারিয়ার ক্ষ'তিগ্র'স্ত হয়েছে। শারীরিক অ'সু'স্থতার জেরে তিনি ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী পাকিস্তান দলে থাকতে পারেননি। ১৯৯০ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৯৩ সালের ফেব্রুয়ারি অবধি তিনি মাত্র পাঁচটি ওয়ান ডে খেলেছিলেন। তার মধ্যে একবারও দুই অঙ্কের রানে পৌঁছতে পারেননি।

১৯৯৬ সালে বিয়ে করেন সাঈদ আনোয়ার। তার স্ত্রী লুবনা একজন চিকিৎসক। সে বছরও অ'সু'স্থতায় ব্যাহত হয় তার পারফরম্যান্স। আনোয়ারের চিকিৎসা করেছিলেন তার স্ত্রী। কিন্তু তার ঠিক কী হয়েছিল, জানা যায় না। সুস্থ হয়ে অবশ্য দুরন্ত ফর্মে বাইশ গজে ফিরে আসেন সাঈদ আনোয়ার।

পেপসি ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপে ১৯৯৭ সালের ২১ মে ভারতের বি'রু'দ্ধে ১৯৪ রান করেন সাঈদ আনোয়ার। প্র'চ'ণ্ড গরমে তার পায়ে ক্র্যাম্প ধরে গিয়েছিল। তিনি রানার নিয়ে ইনিংস শেষ করেন। ওই ম্যাচে পাকিস্তানের আর কোনও ব্যাটসম্যান সেভাবে রান করতে পারেননি। পাকিস্তানের মোট রান ছিল ৩২৭। 

জবাবে, রাহুল দ্রাবিড়ের লড়াকু ১০৭ রান সত্ত্বেও ওই ম্যাচে ভারত ৩৫ রানে পরাজিত হয়। ১৩ বছর ধরে সাঈদ আনোয়ারের ওয়ান ডে তে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড অক্ষত ছিল। জিম্বাবুয়ের চার্লস কভেন্ট্রিও এই স্কোর করেন। তাদের যুগ্ম রেকর্ড ভেঙে যায় শচীন টেন্ডুলকারের ব্যাটে। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০০ রানে অপরাজিত থাকেন শচীন।

ভারত-বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সাঈদ আনোয়ারের পারফরম্যান্স বরাবর অসাধারণ। সব ধরনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তার গড় ৬৪.৩৩, ভারতের বিরুদ্ধে ৪৪.৯২ এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪৭.৯৫। তার ৩১টি আন্তর্জাতিক শতরানের মধ্যে ১৫টি এসেছে এই তিন দেশের বিপক্ষে। ১৯৯৭ সালে তিনি উইজডেন পত্রিকার বিচারে বর্ষসেরা ক্রিকেটার হয়েছিলেন।

২০০১ সালে মুলতানে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়। এই টেস্টের শেষ দিনে এক পারিবারিক বি'প'র্য'য়ে ত'ছন'ছ হয়ে যায় সাঈদ আনোয়ারের জীবন। দীর্ঘ অ'সু'খের পর মা'রা যায় তার সাড়ে তিন বছরের শিশুকন্যা, বিসমাহ। এরপর থেকে সাঈদ আনোয়ারের কাছে জীবনের অর্থই পাল্টে যায়।

ক্রিকেট ছেড়ে সাঈদ আনোয়ার মন দেন ধর্মপ্রচারে। তার একমাত্র সঙ্গী হয় ধর্মপুস্তক। সন্তানশো'ক ভুলতে ধর্মের বাণীতেই সান্ত্বনার আশ্রয় খুঁজে পেয়েছিলেন তিনি। ২০০৩ সালে আবার ক্রিকেটে ফিরেছিলেন সাঈদ আনোয়ার। খেলেছিলেন বিশ্বকাপ। 

তার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজের বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে সাঈদ আনোয়ারের স্কোর ছিল ৪০ রান। তার আগের ম্যাচ ছিল ভারতের বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচে‌ পাকিস্তান ৬ উইকেটে হারলেও আনোয়ার শতরান করেছিলেন। সেই রান তিনি উৎসর্গ করেছিলেন বিসমাহ'র স্মৃতিতে।

১৯৯৬, ১৯৯৯ এবং ২০০৩। তিনটি বিশ্বকাপেই সাঈদ আনোয়ারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ছিল। বিশ্বকাপের ২১টি ম্যাচে তার সংগ্রহ ছিল ৯১৫ রান। গড় ৫৩.৮২। ৭টি টেস্ট এবং ১১টি ওয়ান ডে-তে অধিনায়কত্বও করেছেন সাঈদ আনোয়ার। 

তবে অধিনায়ক হিসেবে তিনি কোনওদিন সেভাবে সাফল্য পাননি। এখনও অবশ্য সাফল্য-ব্য'র্থ'তা-পরিসংখ্যান থেকে বহু দূরে ধর্মপ্রচারক হিসেবে দিন কাটাচ্ছেন অতীতের এই বি'ধ্বং'সী ওপেনার। সূত্র: আনন্দবাজার



ইসলাম


৬০০ মসজিদে ১৩০০ হাফেজ কুরআন বিনা পারিশ্রমে পড়াচ্ছেন খতম তারাবিহ

৬০০-মসজিদে-১৩০০-হাফেজ-কুরআন-বিনা-পারিশ্রমে-পড়াচ্ছেন-খতম-তারাবিহ

উপবাস নয়, রোজা হলো মুসলমানদের একটি ইবাদত

উপবাস-নয়-রোজা-হলো-মুসলমানদের-একটি-ইবাদত

মহান আল্লাহই মানুষের সবচেয়ে বড় আশ্রয়দাতা

মহান-আল্লাহই-মানুষের-সবচেয়ে-বড়-আশ্রয়দাতা ইসলাম সকল খবর »

এক্সক্লুসিভ নিউজ


বাবা নেই ছোটকালেই, অভাবে মাত্র তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়া এই ঘুগনি বিক্রেতাকে নিয়ে পি.এইচ.ডি করছেন ৫ জন

বাবা-নেই-ছোটকালেই-অভাবে-মাত্র-তৃতীয়-শ্রেণী-পর্যন্ত-পড়া-এই-ঘুগনি-বিক্রেতাকে-নিয়ে-পি-এইচ-ডি-করছেন-৫-জন

মঙ্গলগ্রহে মিলল ভূগর্ভস্থ পানির সন্ধান, মিলতে পারে প্রাণের চিহ্ন!

মঙ্গলগ্রহে-মিলল-ভূগর্ভস্থ-পানির-সন্ধান-মিলতে-পারে-প্রাণের-চিহ্ন-

ডিভোর্স চেয়ে থানায় স্ত্রী, অসম্ভবকেই সম্ভব করে চমকে দিলো পুলিশ!

ডিভোর্স-চেয়ে-থানায়-স্ত্রী-অসম্ভবকেই-সম্ভব-করে-চমকে-দিলো-পুলিশ- এক্সক্লুসিভ সকল খবর »

সর্বাধিক পঠিত


পাঠকই লেখক


ক্ষেতের মধ্য পাল্টাপাল্টি কামড়ে সাপ-বৃদ্ধ দুইজনের মৃত্যু

ক্ষেতের-মধ্য-পাল্টাপাল্টি-কামড়ে-সাপ-বৃদ্ধ-দুইজনের-মৃত্যু

বিয়ের চার বছর পরে স্ত্রীকে প্রাক্তন প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে দিলেন স্বামী!

বিয়ের-চার-বছর-পরে-স্ত্রীকে-প্রাক্তন-প্রেমিকের-সঙ্গে-বিয়ে-দিলেন-স্বামী-

যা ঘটল তাতে রীতিমতো শিহরিত বিজ্ঞানীরা

যা-ঘটল-তাতে-রীতিমতো-শিহরিত-বিজ্ঞানীরা পাঠকই সকল খবর »

জেলার খবর


ঢাকা ফরিদপুর
গাজীপুর গোপালগঞ্জ
জামালপুর কিশোরগঞ্জ
মাদারীপুর মানিকগঞ্জ
মুন্সিগঞ্জ ময়মনসিংহ
নারায়ণগঞ্জ নরসিংদী
নেত্রকোনা রাজবাড়ী
শরীয়তপুর শেরপুর
টাঙ্গাইল ব্রাহ্মণবাড়িয়া
কুমিল্লা চাঁদপুর
লক্ষ্মীপুর নোয়াখালী
ফেনী চট্টগ্রাম
খাগড়াছড়ি রাঙ্গামাটি
বান্দরবান কক্সবাজার
বরগুনা বরিশাল
ভোলা ঝালকাঠি
পটুয়াখালী পিরোজপুর
বাগেরহাট চুয়াডাঙ্গা
যশোর ঝিনাইদহ
খুলনা মেহেরপুর
নড়াইল নওগাঁ
নাটোর গাইবান্ধা
রংপুর সিলেট
মৌলভীবাজার হবিগঞ্জ
নীলফামারী দিনাজপুর
কুড়িগ্রাম লালমনিরহাট
পঞ্চগড় ঠাকুরগাঁ
সুনামগঞ্জ কুষ্টিয়া
মাগুরা সাতক্ষীরা
বগুড়া জয়পুরহাট
চাঁপাই নবাবগঞ্জ পাবনা
রাজশাহী সিরাজগঞ্জ